Breaking



Thursday, February 12, 2026

জীবনানন্দ দাশের ‘হায়চিল’ কবিতা : তথ্যসমূহ

জীবনানন্দ দাশের ‘হায়চিল’ কবিতা : তথ্যসমূহ 

UGC NET/WB SET BENGALI 

UGC NET WB SET BENGALI




 “হায় চিল” 

জীবনানন্দ দাশ

হায় চিল, সোনালি ডানার চিল, এই ভিজে মেঘের দুপুরে

তুমি আর কেঁদোনাকো উড়ে-উড়ে ধানসিড়ি নদীটির পাশে!

তোমার কান্নার সুরে বেতের ফলের মতো তার ম্লান চোখ মনে আসে;

পৃথিবীর রাঙা রাজকন্যাদের মতো সে যে চ’লে গেছে রূপ নিয়ে দূরে;

আবার তাহারে কেন ডেকে আনো? কে হায় হৃদয় খুঁড়ে

বেদনা জাগাতে ভালোবাসে!

হায় চিল, সোনালি ডানার চিল, এই ভিজে মেঘের দুপুরে

তুমি আর উড়ে-উড়ে কেঁদোনাকো ধানসিড়ি নদীটির পাশে।



  জীবনানন্দ দাশের ‘হায়চিল’ কবিতা : তথ্যসমূহ 

🔹 ‘হায়চিল’ কবিতাটি জীবনানন্দ দাশের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘বনলতা সেন’-এর অন্তর্ভুক্ত।

🔹 ‘বনলতা সেন’ কাব্যগ্রন্থের প্রকাশকাল পৌষ ১৩৪৯ বঙ্গাব্দ (ডিসেম্বর, ১৯৪২) এবং এর প্রকাশক ছিলেন জীবনানন্দ দাশ নিজেই।

🔹 ‘হায়চিল’ কবিতাটি মোট ৭টি পঙ্‌ক্তি নিয়ে রচিত।

🔹 কবিতায় ‘বেতের ফল’-এর উল্লেখ বিশেষভাবে লক্ষণীয়।

🔹 এছাড়া ‘ধানসিঁড়ি নদী’-র নামও এই কবিতায় এসেছে, যা জীবনানন্দীয় প্রকৃতি-চেতনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।

🔹 “হায়চিল, সোনালি ডানার চিল,

এই ভিজে মেঘের দুপুরে”—

এই পঙ্‌ক্তিটি কবিতায় দুইবার ব্যবহৃত হয়েছে।

🔹 ‘বনলতা সেন’-এর দ্বিতীয় সংস্করণ (প্রথম সিগনেট সংস্করণ) প্রকাশিত হয় শ্রাবণ ১৩৫৯ বঙ্গাব্দে (১৯৫২); এতে মোট ৩০টি কবিতা সংকলিত ছিল।

🔹 ‘হায়চিল’ কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৪২ বঙ্গাব্দের চৈত্র সংখ্যায়।

🔹 সমালোচকদের মতে, এই কবিতার ভাব ও সুরে W. B. Yeats-এর “He reproves the curlew” কবিতার সঙ্গে কিছু সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।


 

১.“হায় চিল, সোনালি ডানার চিল, এই ভিজে মেঘের দুপুরে”

এখানে কবি চিলকে সম্বোধন করেছেন। “সোনালি ডানা” সৌন্দর্য ও দূরত্বের প্রতীক, আর “ভিজে মেঘের দুপুর” একটি বিষণ্ন আবহ তৈরি করে— যা কবির মনোজগতের দুঃখকে বোঝায়।


 ২.“তুমি আর কেঁদোনাকো উড়ে-উড়ে ধানসিড়ি নদীটির পাশে!”

কবি চিলকে অনুরোধ করছেন যেন সে আর কাঁদতে কাঁদতে না উড়ে। কারণ চিলের এই কান্না কবির মনে পুরোনো বেদনাকে জাগিয়ে তোলে। ধানসিড়ি নদী স্মৃতি ও অতীতের প্রতীক।


৩. “তোমার কান্নার সুরে বেতের ফলের মতো তার ম্লান চোখ মনে আসে;”

চিলের করুণ ডাক শুনে কবির মনে এক নারীর বিষণ্ন চোখের কথা ভেসে ওঠে। “বেতের ফলের মতো” উপমা দিয়ে সেই চোখের নিস্তেজতা ও কষ্ট বোঝানো হয়েছে।


৪. “পৃথিবীর রাঙা রাজকন্যাদের মতো সে যে চ’লে গেছে রূপ নিয়ে দূরে;”

এখানে হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনকে “রাঙা রাজকন্যা” বলা হয়েছে— অর্থাৎ সে ছিল সুন্দর ও আকর্ষণীয়। কিন্তু এখন সে দূরে চলে গেছে, যা বিচ্ছেদের ইঙ্গিত।


 ৫.“আবার তাহারে কেন ডেকে আনো? কে হায় হৃদয় খুঁড়ে / বেদনা জাগাতে ভালোবাসে!”

কবি প্রশ্ন করছেন— কেন আবার সেই স্মৃতিকে জাগানো? কারণ এতে হৃদয়ের পুরোনো ক্ষত আবার খুলে যায়। এটি গভীর মানসিক যন্ত্রণার প্রকাশ।


৬. “হায় চিল, সোনালি ডানার চিল, এই ভিজে মেঘের দুপুরে”

প্রথম লাইনের পুনরাবৃত্তি। এতে কবিতার আবেগ ও সুর আরও জোরালো হয়েছে এবং কবির বিষণ্ন অনুভূতি ঘনীভূত হয়েছে।


৬.“তুমি আর উড়ে-উড়ে কেঁদোনাকো ধানসিড়ি নদীটির পাশে।”

শেষ লাইনে আবারও অনুরোধ— চিল যেন না কাঁদে। আসলে কবি নিজের মনকেই শান্ত করতে চাইছেন, যাতে পুরোনো স্মৃতি আর বেদনা ফিরে না আসে।


✅ সারসংক্ষেপ: পুরো কবিতায় চিল একটি প্রতীক— যার মাধ্যমে হারানো প্রেম, স্মৃতি ও নিঃসঙ্গতার অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে।

No comments:

Post a Comment