শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী লিমিটেড
পরশুরাম
v গল্পটি ভারত বর্ষ মাঘ ১৩২৯ (1922) প্রকাশিত হয় ‘গড্ডালিকা'
গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত ।
চরিত্র পরিচয় :-
v
শ্যামলাল গাঙ্গুলী (শ্যামবাবু)
:
Ø বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি
Ø গাঢ় শ্যামবর্ণ
Ø কাচাপাঁকা দাড়ি
Ø আকন্ঠলম্বিত কেশ
Ø স্থূল লোমশ বপু
Ø ইবি রেলওয়ে অডিট অফিসে চাকরি করতেন। ৬ মাসের ছুটি নিয়ে ‘
ব্রহ্মচারী এন্ড ব্রাদার ইন-ল জেনারেল মার্চেন্স' কোম্পানি খুলেছে।
Ø ধর্মভীরু ,পঞ্জিকা দেখে জীবনযাত্রা করে।
Ø অবসরে তান্ত্রিক সাধনা করে
Ø নিজেকে শ্রীমৎ শ্যামানন্দ ব্রহ্মচারী আখ্যা দিয়ে থাকেন।
Ø শ্যাম বাবু ধর্ম ভীরু লোক
v
অটলবিহারী দত্ত :-
Ø চাপকান চোগাধারী সদ্যজাত আটর্নি।
Ø পিতার অফিসে সম্প্রতি জুনিয়র পার্টনার রূপে যোগ দিয়েছেন
Ø গৌরবর্ণ সুপুরুষ।
Ø বয়সে নবীন হলেও চাতুর্যে পরিপক্ক
v
গন্ডেরিয়াম বাটপারিয়া :-
Ø মধ্যবয়স্ক, শ্যাম বর্ণ ,পরিধানে সাদা ধূতি লম্বা কালো
বানাতের কোর্ট।
Ø পায়ে বার্ণিশ করা জুতো
Ø মাথায় হলদে ভাঁজ করা মখমলের পাগড়ি
Ø হতে অনেকগুলি আংটি
Ø কানে পান্নার মাকড়ি, কপালে ফোঁটা
v
বিপিন :
Ø সাহেবি মেজাজের লোক।
Ø পরিধানে সাদা প্যান্ট ▶️ কালো কোট▶️ লাল নেকটাই ▶️হাতে সবুজ ফেল্ট হ্যাট
Ø উজ্জল শ্যামবর্ণের, ক্ষীণকায়,গোঁফের দুই প্রান্ত কামানো
v তিনকড়ি বাবু –
Ø বাড়ি : বাগবাজার গলির ভিতর
Ø বয়স : ষাট বৎসর, ক্ষীণ দেহ, দাড়ি কামানো
Ø শীর্ণ গোঁফে তামাকের ধোঁয়ায় পাঁকা খেজুর রঙ ধরিয়াছে।
Ø কথা কহিবার সময় আরশোলার দাড়ার মতো নড়ে
⚫গল্পের কাহিনীবিন্যাস:-
v গল্পের শুরু- মাঘ মাস,১৩৩৬ সাল।
v গল্পের শুরুর সময় – আরমানি গির্জার ঘড়িতে বেলা ১১ টা।
v শ্যাম বাবুর হাতে একটি চামড়ার ব্যাগ।
v ব্যাগ হাতে করে শ্যাম বাবু জুডাস লেনের তেতলা বাড়িতে
প্রবেশ করেন।
🟤 বাড়ির
চিত্র
Ø বাড়িটি বহু পুরাতন। ক্রমাগত চুন ও রংয়ের প্রলেপে লোলচর্ম
কলপিত কেশবৃদ্ধের দশা প্রাপ্ত হইয়াছে।
Ø বাড়িটির নিচে অন্ধকারময় মালের গুদাম।
Ø বাড়িটির উপরতলার সম্মুখ ভাগে অনেকগুলো ব্যাবসায়ী
আপিস।পশ্চাতে বিভিন্ন জাতের কয়েকটি পরিবার পৃথক পৃথক অংশে বাস করেন।
Ø প্রবেশ দ্বারের সন্মুখে তেতলা পর্যন্ত বিস্তৃত কাঠের
সিঁড়ি।
Ø সিঁড়ির পাশের দেওয়াল আগাগোড়া তাম্বুলরাগচর্চিত।
Ø কতিপয় ইঁদুর ও আরশোলা পরস্পর অহিংস ভাবে সচ্ছন্দে ইতস্তত
বিচরণ করিতেছে। আশ্রম মৃগের ন্যায় নিঃশঙ্ক ।সিঁড়ির যাত্রীগণকে গ্রাহ্য করে না।
Ø সিন্ধি পরিবারের রান্নাঘর থেকে নির্গত হচ্ছে তীব্র হিংয়ের
গন্ধ।
v শ্যাম বাবু তেতালার একটি ঘরের তালা খুললেন।
v সেই ঘরের কাষ্ঠ ফলকে লেখা আছে- ব্রহ্ম চারী অ্যান্ড ব্রাদার
ইন্ ল জেনারেল মার্চেন্টস।
v শ্যাম বাবু শ্যালক হলেন- বিপিন চৌধুরী, বি, এস,সি ।
v শ্যামবাবুর অফিসের ঘরে রয়েছে পুরাতন কয়েকটি টেবিল ও আলমারি প্রভৃতি আপিস
সরঞ্জাম।
v টেবিলের উপর নানা রকম খাতা, বিতরণের জন্য ছাপানো বিজ্ঞাপনের
স্তূপ, একটি পুরাতন থ্যাকার্স ডিরেক্টরি, একখন্ড ইন্ডিয়ান কোম্পানিজ অ্যাক্ট,
কয়েকটি বিভিন্ন কোম্পানির নিয়মাবলির আর্টিকেল এবং অন্যবিধ কাগজপত্র ।
v দেওয়াল সংলগ্ন তাকের ওপর ধূলি ধূসরিত কাগজ মোড়া শিশি ও শূণ্যগর্ভ মাদুলি রয়েছে।
v এককালে শ্যাম বাবু পেটেন্ট ও স্বপ্নাদ্য ঔষধের কারবার
করতেন।
v ই, বি, রেলওয়ে আফিস এর চাকরি ই তাহার জীবিকা
নির্বাহের প্রধান উপায়।
v শ্যাম বাবুর একটি জীর্ণ কালীমন্দির আছে,সেখান থেকে আয় হয়
সামান্য।
v শ্যাম বাবু চাকরির অবকাশে ব্যাবসা করেন, এই ব্যাবসায় তাকে
সাহায্য করেন বিপিন।
v শ্যাম বাবুর কোনো সন্তান নেই।
v স্ত্রী, শ্যালক কে নিয়ে শ্যাম বাবু কলকাতার বাসায় থাকেন।
v সম্প্রতি ৬ মাসের ছুটি নিয়ে নতুন উদ্যমে ব্রহ্মচারী
অ্যান্ড ব্রাদার ইন ল নামে আফিস প্রতিষ্ঠা করেছেন।
v শ্যাম বাবু ধর্ম ভীরু লোক।
v তিনি কয়েক মাস্ ধরে বাড়িতে গৈরিক বস্ত্র পরিধান করছেন।
v শ্যাম বাবু নিজেকে শ্রীমৎ শামানন্দ ব্রহ্মচারী আখ্যা দিয়ে
থাকেন ।
v ক্ষুধা না থাকিলে মাংস ভোজন এবং অকারণে কারণ পান করেন না।
v কোন সন্ন্যাসী সোনা করিতে পারে ,কাহার নিকট দক্ষিণাবর্ত
শঙ্খ বা একমুখী রুদ্রাক্ষ আছে ,কে পারদ ভষ্ম করিতে জানে এই সকল সন্ধান প্রায়ই
লইয়া থাকেন।
v শ্যাম বাবু সার্ধ ত্রিপাদ ইজি চেয়ারে বসে চাকর বাঞ্ছা কে
ডাকলেন।
v শ্যাম বাবুর চাকর- বাঞ্ছা।
v বাঞ্ছা পাসের গলিতে টুলে বসে ঢুলছিল।
v শ্যাম বাবু বাঞ্ছা কে গঙ্গাজলের বোতলটা আনতে বলতে সে
শ্যাম বাবু কে একটি তামার কুপি এনে দিল।
v শ্যাম বাবু টেবিলের দেরাজ থেকে একটি সিঁদুর চর্চিত রবার
স্ট্যাম্প এর সাহায্যে ১০৮ বার দুর্গা নাম লিখলেন।
v স্ট্যাম্পে ১২ লাইন শ্রী শ্রী দুর্গা খোদিত আছে,৯ বার
ছাপলেই কার্যোদ্ধার হয়।
v এই শ্রমহারক যন্ত্রটির আবিষ্কর্তা – শ্রীমান বিপিন।
v শ্রীমান বিপিন ইহার নাম দিয়েছেন- ‘ দি অটোম্যাটিক শ্রী
দুর্গাগ্রাফ’।
v বিপিন বাগবাজার এ তিনকড়ি বাঁড়ুয্যের কাছে পাকা কথা নিয়ে
আসার জন্য গেছে।
v তিনকড়ি বাবু যেমন কঞ্জুস তেমনি সন্দিগ্ধ।
v তিনকড়ি বাবু হলেন রায় সাহেব, রিটায়ার্ড ডেপুটি,
গভর্মেন্ট এর কাছে অনেক নাম।
v প্রতি মিটিং এ ৩২ টাকা ফি পাবে শুনে তিনি শেষে রাজি হন
v তিনকড়ি বাবু বাতে ভুগছেন।
v মহারাজ কে ধরতে বড় শিকারী চাই তোমার আমার কর্ম নয় তাছাড়া
পাঁচভূতে থাকে শুষে দিয়েছে_শ্যামলালের উক্তি
v “রাম রাম বাবু সাহেব”এই কথাটি বলে শ্যাম বাবুর ঘরে ঢুকলেন
গন্ডেরিরাম বাট পারিয়া।
v গন্ডেরিরাম ছিলেন শ্যাম বাবুর বিশেষ বন্ধু।
v গন্ডেরিরাম আসতে শ্যাম বাবু বাঞ্ছা কে চেয়ার দিতে বলেছিলেন।
v অটল বাবু সলিসিটর দত্ত কোম্পানির পার্টনার।
v শ্যামবাবু মা তারা দীনতারিণী দেবীর নাম উল্লেখ করেন।
v গন্ডেরিরাম বাবু পাকা ব্যবসাদার সঙ্গে ইংরেজি ভালো না
জানলেও বেশ শিক্ষিত লোক, শাস্ত্রেও বেশ দখল আছে।_শ্যাম
v গন্ডেরিরাম বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কিতাব
পড়েছেন বলে অটল বাবুকে জানান।
v তিনকড়ি বাবু ২ হাজার টাকার শেয়ার নেবেন।
v শ্যাম বাবু, অটল, বিপিন পরশু সকালে ভাত খাবার নিমন্ত্রণ
করেছেন বলে বিপিন জানায়।
v আমি মেমোরান্ডাম আর আর্টিকেলসের সবিদা এনেছি-অটল
v অটল প্রসপেক্টসটা পড়ার জন্য শ্যাম বাবু কে বলেন।
⚫অনুষ্ঠান পত্রে উল্লেখিত তথ্য
Ø দুর্গা—দুর্গা, জয় সিদ্ধিদাতা গণেশ নাম করে শ্যাম বাবু শুরু
করলেন পড়া।
Ø “শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী লিমিটেড”নামে স্থাপিত জয়েন্ট স্টক
কোম্পানিটি ১৯১৩ সালের ৭ আইন অনুসারে রেজিস্ট্রিত।
Ø কোম্পানির মূল্য ১০ লক্ষ্য টাকা।
Ø মূলধন ১০ হিসেবে ১০০,০০০ অংশে বিভক্ত।।
Ø আবেদনের অংশ পিছু ২ প্রদেয়। বাকি টাকা ৪ কিস্তিতে ৩
মাসের নোটিশে প্রয়োজন মত দিতে হবে।
Ø ধর্ম হিন্দুদিগের প্রাণস্বরুপ।
Ø ভারতবর্ষের বিখ্যাত দেবমন্দির গুলির বিপুল আয় কিরূপ তাহা
সাধারণের জ্ঞাত নহে।
Ø রিপোর্ট থেকে জানা যায় বঙ্গদেশের একটি দেবমন্দিরে দৈনিক
যাত্রি সংখ্যা গড়ে ১৫ হাজার। লোক পিছু ৪ আনা মাত্র ধরা হলেও বাৎসরিক আয় সাড়ে ১৩
লক্ষ টাকা।
Ø সাধারণের এই বৃহৎ অভাব দূরীকরণের স্বার্থে শ্রী শ্রী
সিদ্ধেশ্বরী লিমিটেড নামে একটি জয়েন্ট স্টক কোম্পানি স্থাপিত হচ্ছে।
Ø শেয়ার হোল্ডারগণ আশাতীত দক্ষিণা বা ডিভিডেন্ড পাবেন এবং
একাধারে ধর্ম অর্থ মোক্ষ লাভ করে ধন্য হবেন।
🟤 ছাপানোর জন্য শ্যাম বাবু যে প্রসপেক্টসটা লিখেছিলেন তাতে ৫
জন ডিরেক্টটরের নাম ছিল-
ক)
অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ বিচক্ষণ ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট রায়সাহেব শ্রী যুক্ত তিনকড়ি
বন্দ্যোপাধ্যায়।
খ) বিখ্যাত
ব্যাবসাদার ও ক্রোড়পতি শ্রী যুক্ত গন্ডেরিরাম বাটপারিয়া।
গ) সলিসিটর্স
দত্ত অ্যান্ড কোম্পানির অংশীদার শ্রী যুক্ত অটলবিহারী দত্ত (M,A,B,L)
ঘ) বিখ্যাত
বৈজ্ঞানিক মিস্টার বি, সি, চৌধুরী,B,Sc,A,S,S(U,S,A)
ঙ)কালীপদাশ্রীত
সাধক ব্রহ্মচারী শ্রীমৎ শ্যামানন্দ (ex- officio)।
v ৫০ টাকা খরচ করে আমেরিকা না কামস্কাটকা কোথা থেকে তিনটে হরফ
আনিয়েছে।
v শ্যাম বাবু হলেন শক্তি মন্ত্রের সাধক, পরিধেয় হল
রক্তাম্বর।
v শ্যাম বাবু বলেন যতদিন না কমিশনে মাসিক ১০০০ টাকা
পোষায় ততদিন শেষোক্ত টাকা অ্যালাওয়েন্স রূপে পাইবেন।
v হুগলী জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে সিদ্ধেশ্বরী দেবী বহু
শতাব্দী ধরে প্রতিষ্ঠিত আছেন।
v দেবমন্দীর ও তৎসংলগ্ন দেবত্ব সম্পত্তির স্বত্বা ধিকারিণী
হলেন শ্রীমতী নিস্তারিণী দেবী।
v শ্রীমতী নিস্তারিণী দেবী অবলা বলে, দৈবাদেশ নিজে পালন
করতে অপারগ বলে উক্ত দেবত্ব সম্পত্তি , মায়ের মন্দির, বিগ্রহ জমি আওলাত আদি এই
লিমিটেড কোম্পানিকে সমর্পণ করছেন।
v কোম্পানি মাত্র ১৫০০০ টাকা পণে সিদ্ধেশ্বরী দেবীর
মন্দিরের সমস্ত সম্পত্তি খরীদার্থে বায়না করেছে।
v নূতন দেবালয় আরম্ভ হবে__ তৎসংলগ্ন প্রশস্ত নাটমন্দির▶️ নহবতখানা▶️ভোগ শালা▶️ভান্ডার প্রভৃতি অনেক ব্যাবস্থা থাকবে বলে জানান শ্যাম
বাবু।
v শ্যাম। কেন, অন্যায়টা কি হ'ল? স্বপ্নাদেশ, একান্ন পীঠ এক
ঠাঁই, জাগ্রত দেবী—এসব বাকি কিছু নয়? গুড-উইল হিসেবে পনের হাজার টাকা খুবই কম।
v মন্দিরে দশ হাজার যাত্রীর উপযুক্ত অতিথিশালা নির্মিত
হবে।
v Caveat emptor অর্থাৎ ক্রেতা সাবধান।
v শেয়ারহোল্ডারগণ বিনা খরচে সেখানে সপরিবারে বাস করতে পারবেন
v হাট বাজার যাত্রা থিয়েটার বায়োস্কোপ ও অন্যান্য আমোদ
প্রমোদের আয়োজন থাকবে।
v যাহারা দৈবাদেশ বা ঔষধ প্রাপ্তির জন্য হত্যা দেবেন তাহাদের
জন্য বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থা থাকবে।
v স্বয়ং শ্রীমৎ শ্যামানন্দ ব্রহ্মচারী সেবার ভার নেবেন।
v দোকান, হাট, বাজার, অতিথিশালা, মহাপ্রসাদ বিক্রি প্রভূতি
থেকে প্রচুর লাভ হবে।
v সেবার ফুল থেকে সুগন্ধি তৈল প্রস্তুত হবে।
v প্রসাদী বিল্ব পত্র মাদুলিতে ভরে বিক্রি হবে।
v চরণা মৃত বোতলে ভরে প্যাক করা হবে।
v বলির জন্য নিহত ছাগল সমূহ এর চর্ম ট্যান করে উৎকৃষ্ট কিড
স্কিন প্রস্তুত হবে এবং বহুমূল্যে বিলাতে চালান হবে।
v হাড় থেকে বোতাম হবে।
v ছাগল বলি হবে শুনে গন্ডেরিরাম আপত্তি জানালে শ্যাম বাবু
কুমড়ো বলি দেবার কথা জানায়।
v বিপিন বলে কুমড়োর খোসা কস্কিট পটাশ দিয়ে বয়েল করে
ভেজিটেবিল স্য
শু(স্যুপ) হতে পারে।
v কোম্পানির বাৎসরিক লাভ হবে অন্তত ১২ লক্ষ টাকা, হিসেব করে
জানা যায়।
v শেয়ার প্রতি দিতে হবে ২ টাকা।
v কোম্পানি ১০০ পার্সেন্ট ডিভিডেন্ড দিতে পারবে।
v ৩০ হাজার শেয়ারের আবেদন পেলে অ্যালটমেন্ট হবে।
“ঐসী গীত সনসারমে যো গাড়র কি ঠাট
এক পড়া যব গাঢ়মে সবৈ যাত তেহি বাট”।
__এই কবীরজী বচনটা শুনিয়েছেন গন্ডেরিরাম।
v এটির অর্থ- সনসারের লোক সব যেন ভেড়ার পাল। এক ভেড়া যদি
খান্দেমে গির পড়ে তো সব কোই উসিমে ঘুসে।
v গন্ডেরিরাম ঘি কে ঘই বলেছিলেন।
v প্রতি বছর গন্ডেরিরাম ঘই এর কাজে ২৫ হাজার টাকা লাগায় এবং
মুনাফা হয় সাড়ে ২৪ হাজার।
v অটল গন্ডেরিরাম কে গন্ডার জী বলেছিল।
v গন্ডেরিরাম রোজ গীতা ও রামচরিতমানস পড়তেন,আর রামভজন করতেন।
v গন্ডেরিরাম ব্যবসার জন্য কাসেম আলিকে টাকা ধার দিতেন।
v হামি রহি কলকাতায়, ঘই বনে হাথরসমে_গন্ডেরিরাম
v গন্ডেরিরাম তার ব্যবসার মহাজন, সুদ নেন এবং মুনাফার আধা
হিসসাও নেন।
v গন্ডেরিরাম একাদশী, শিবরাত্রি, রাম নবমীর উপবাস পালন করতেন।
v গন্ডেরিরাম ৮ টি ধর্মশালা বানিয়েছিল- লিলুয়া, বালি, আর
শেওড়াফুলি তে।
v লিলুয়ার ধর্ম শালা করেছে গন্ডেরিরামের চাচেরা ভাই আশরফিলাল
ঠুনঠুনওয়ালা, আর এই কাজে তাকে পরামর্শ ও ঠিকাদার, তদারকি সব দিয়েছে গন্ডেরিরাম।
v সয়করা পাঁচ রুপয়া নস্তুরি তো হিসাব কিজিয়ে তো কিতনা হয়,
আসরাফির পুণ্য যদি সোলহ লাখকা হোয়,মেরা ভি আস_সি হাজার মোতাবেক হোনা চাহতা।
v বাঙালি ৩০ রুপায়ার নকরি করবে ৫ পয়সার হরিলুট দিবে
v “শ্যাম দা ও গন্ডেরিরামদা যেন মানিকজোর”---কথাটি বলেছিল
অটল।
v বৈরাগ সাধনে মুক্তি সো হমার নহি”----(বৈরাগ্য সাধনে মুক্তি
সে আমার নয়)- রবীন্দ্রনাথের এই লাইনটি বলেছিল গন্ডেরিরাম।
v গন্ডেরিরাম বাবুর রেস খেলার প্রসঙ্গ আছে।কোন্ট্রি গেরিল
ঘোড়ার ওপর ২০০/৪০০ টাকা লাগাবেন সে কথাও বলেন।
v পরশু দেখা হবে বলে অটল শ্যাম বাবুকে বলে চলে যায়।
v বাগবাজারের গলির ভিতর রায় সাহেব তিনকড়ি বাবুর বাড়ি।
v তিনজন তিনকড়ি বাবুর বাড়িতে নিমন্ত্রিত হয়ে গেছেন।
v ৩ জন্য বাবুর নিচের তলার বৈঠকখানা ঘরে গৃহ কর্তার সঙ্গে
ভোজনের অপেক্ষা করছেন।
v তিনকড়ি বাবুর বয়স – ৬০ বছর, ক্ষীণ দেহ , দাড়ি কামানো
v কথা বলবার সময় তিনকড়ি বাবুর গোঁফ আরশোলার দাড়ার মত নড়ে।
v তিনি দৈব ব্যাপারে বিশেষ একটা বিশ্বাস করেন না।
v তিনকড়ি বাবুর বাড়িতে শ্যাম বাবু নিমন্ত্রিত হয়ে
গিয়েছিলেন যে পরিধান পড়ে তা হলো
🟤লাল চেলী> গেরুয়া রঙের আলোয়ান>পায়ে বাঘের
চামড়ার শিং তোলা জুতা>দাড়ি এবং চুল সাজিমাটি দ্বারা যথাসম্ভব
ফাঁপানো>কপালে মস্ত বড় সিঁদুরের ফোঁটা।
v তিনকড়ি বাবু তামাক টানেন।
v তিনকড়ি বাবু যখন আমড়াগাছি সবডিভিশনের ট্রেজারি চার্জে
ছিলেন তখন কলেজ পাস করা নতুন গোঁফ কামানো ডেপুটি এসেছিলেন তিনকড়ি বাবুর কাছে কাজ
শিখতে।
v সেই ছেলেটি তিনকড়ি বাবুর কাজে গলদ ধরত।
v শেষে লিখলুম কোল্ডহাম সাহেবকে, যে হুজুর তোমরা রাজার জাত,
দু-ঘা দাও সহ্য হয়, কিন্তু দেশী ব্যাঙাচির লাথি বরদাস্ত করবো না।
v তারপর নওগাঁয়ে গাঁজা গোলার চার্জে বদলি করে দিলেন তাকে।
v তিনকড়ি বাবুর নাম ছিল জবরদস্ত হাকিম।
v বিপিন অটল শ্যাম বাবু প্রত্যেক কেই ৫০ হাজার করে দিয়েছেন।
v গন্ডেরিরাম ১ লাখ টাকা শেয়ার কিনেছেন।
v গন্ডেরিরাম মহা হিসেবী লোক।
v শ্যাম বাবু সর্ব ত্যাগী সন্ন্যাসী।
v তিনকড়ি বাবুর চাকর এসে খাবার খেতে যাওয়ার কথা হিসেবে
বলেছিল--- .”ঠাঁই হয়েছে”।
v শ্যাম বাবু খাবারের আয়োজন দেখে বলেছিলেন “রাজসূয় যজ্ঞ”।
v তিনকড়ি বাবু রাতে ভাত খান না বাত আছে বলে তাই ২ খানা সুজির
রুটি খান।
v কড়াইয়ের ডাল, শাক ভাজা, এচোঁরের ঘণ্ট, পুঁটি মাছ ভাজা,
কামরাঙার অম্বল ইত্যাদি রান্নার আয়োজন ছিল।
🟤কোন খাবার দেখে কি উক্তি করেন শ্যামবাবু__
Ø শাক ভাজা, কড়াইয়ের ডাল, এচোড়ের ঘন্ট_শোধন করে নিতে হবে।
Ø আয়ুর্বেদে আছে _পানসে কদলং কদলে ঘৃতম। কদলীভক্ষনে
পনসের দোষ নষ্ট হয় আবার ঘৃতের দ্বারা কদলীর শৈত্য গুণ দূর হয়”
Ø এচোড়ের ঘন্ট- পানসে কদলং কদলে ঘৃতম
Ø পুটিমাছ- রোহিতদপি রোচকা পুন্টিকাঃ সদ্যভর্জিতাঃ
Ø কামরাঙা- গতবছর শ্রীক্ষেত্রে গিয়ে জগন্নাথ প্রভু কে
কামরাঙা ফলটি দান করেছিলেন।
v অটল – (জনান্তিকে) আরম্ভের ব্যাবস্থা যা দেখছি তাতে বাড়ি
গিয়ে ক্ষুন্নিবৃত্তি করতে হবে।
v তিনকড়ি বাবুর বাতের রোগ আছে বলে শ্যাম বাবু একটি ফেৎকারিণী
তন্ত্রোক্ত কবচ করে দেবেন বলেন ।
v শ্যাম বাবুর শ্লেম্মার ধাত আছে তাই অম্বল জিনিসটা সহ্য হয়
না।
v শয়নে পদ্মনাভঞ্চ ভোজনে তু জনার্দনম্”—কথাটি বলেন শ্যাম
বাবু।
v তিনকরি_ আচ্ছা ঠাকুরমশাই, আপনাদের তন্ত্র শাস্ত্রে এমন কোন
প্রক্রিয়া নেই যার দ্বারা লোকের -ইয়ে-মানমর্যাদা বৃদ্ধি পেতে পারে।
v কুলার্ণবে –অমানিনা মানদেন”----অর্থ হল---কুল কুণ্ডলিনী
জাগ্রতা হলে অমানি ব্যক্তিকেও মান দেন।
v কোল্ডহাম বাবু বলেছিলেন লাটসাহেব কে ধরে তিনকড়ি বাবুকে
খেতাব দেওয়াবেন।
v শ্যাম বাবু বলেন শাস্ত্র মিথ্যা হতে পারেন না।
v তিনকড়ি বাবুর শালী পো কে শ্যাম বাবুর অফিসে কাজে লাগানোর
জন্য বলেন
v তিনকড়ি বাবুর শালী পো টি লেখাপড়া না শিখে বেকার হয়ে
কুসঙ্গে পরে বিগড়ে গেছে।
v ছোকরা (তিনকড়ি বাবুর শালীপো)বেশ চটপটে ও স্বভাব চরিত্র ও
বেশ ভালো।
v শ্যাম বাবু তিনকড়ি বাবুর শালী পো কে মন্দিরের হেড পান্ডা
করে দেবেন জানায়।
v মন্দিরের হেড পান্ডা হওয়ার জন্য গোটা ১৫ দরখাস্ত
এসেছে----তার মধ্যে ৫ জন গ্র্যাজুয়েট।
v তিনকড়ি বাবু তার বাড়িতে রাখা ফাটা খাঁটি কাঁচা টি শ্যাম
বাবু কে মন্দিরের কাজে লাগাতে বলেন।
v গন্ডেরিরাম বাবুর ভবিষ্যত বাণী সফল হয়েছে।
v বিজ্ঞাপনের জোরে ও প্রতিষ্ঠাতৃগণের চেষ্টাই সমস্ত শেয়ার
বিলি হয়েছে।
v বাজারে শেয়ার চড়া দামে কেনা বেচা হচ্ছে।
v “পেটে খেলে পিঠে সয়”---- অটল।
v সন্ধ্যেবেলায় শ্যাম বাবু গন্ডেরিরাম কে নিয়ে অটল বাবুর
বাড়িতে যাবেন বলে জানায়।
v দেড় বছর পর যখন ব্রহ্ম চারী অ্যান্ড ব্রাদার-ইন-ল
কোম্পানির অফিসে ডিরেক্টর গণের সভা বসেছে তখন সেই সভার সভাপতি ছিলেন তিনকড়ি বাবু।
v তিনকড়ি বাবু টেবিলে ঘুষি মেরে জানতে চান সব টাকা কোথায়
গেলো!!
v কয়লাওলার পাওনা ছিল ২৫ হাজার টাকা।
v ইটখোলার ঠিকাদারের পাওনা ছিল ১২ হাজার টাকা।
v এছাড়াও ছাপাখানাওয়ালা, শার্পর কোম্পানি, কুন্ডু মুখুজ্জ্যে
এরকম আরও পাওনা দার আছে।
v তিনকড়ি বাবু শ্যাম বাবু কে ভন্ড জোচ্চোর বলেন।
v অত ব্যাস্ত হচ্ছেন কেন স্যার,এই ফর্দ রয়েছে দেখুন না জমি
কেনা, শেয়ারের দালালি, ইট তৈরী, বিজ্ঞাপন, আপিস খরচ,preliminary expense, establishment প্রভৃতির খরচের কথা বলে __বিপিন> তিনকড়ি কে।
v “চোরের সাক্ষী গাঁট কাটা”-----তিনকড়ি বাবু বিপিন কে বলেন
v শ্যাম বাবু তিনকড়ি বাবুকে গোবিন্দপুর গিয়ে সব হিসেব দেখে
আসার কথা বলেন।
v তিনকড়ি বাবু শ্যাম বাবুর কাছে টাকা ফেরৎ চাইলে শ্যাম বাবু
জগন্মাতার নাম করে বলেন আর একটা call এর টাকা তুললেই সমস্ত দেনা শোধ হয়ে যাবে, কাজও এগোবে।
v শ্যাম বাবু কাশী যাওয়ার কথা বলেন।
v বিশ হাঁথ পানি”----কথাটি বলেন গন্ডেরিরাম। শ্যাম বাবু
প্রস্তাব করেন---তিনকড়ি ব্যানার্জি মহাশয়কে মাসিক ১০০০ টাকা পারিশ্রমিক দিয়ে
কোম্পানি চালাবার ভার অর্পণ করা হবে।
v “ঘরের খেয়ে বুনো মোষ তাড়াই”---- তিনকড়ি বাবু।
v অর্থ হচ্ছে সাধনের অন্তরায়”------ শ্যাম বাবু।
v শ্যাম বাবু তার কোম্পানির ১৬০০ শেয়ার তিনকড়ি বাবুকে প্রথম
৩২০০ টাকায়,
v তার পর ২৪০০> ২০০০ >১০০০ >৫০০ টাকা,শেষ পর্যন্ত
তিনকড়ি বাবুর কথা মত ৮০ টাকায় দিয়ে দেন।
v পকেট থেকে মনি ব্যাগ বের করে সদ্য পাওয়া পেনশনের টাকা হইতে ৮ খানা আনকোরা ১০ টাকার নোট সন্তর্পণে শ্যাম বাবুকে গনিয়া দিলেন।
v শ্যাম বাবু বাড়িতে সত্য নারায়ণ পুজো আছে বলে চলে যান ।
v “শুভমস্তু—মা দশভূজা আপনার মঙ্গল করুন”----কথাটি শ্যাম বাবু
বলেন
v তিনকড়ি বাবুর আগে শেয়ার ছিল ২০০, শ্যাম বাবুর কাছ থেকে
১৬০০ শেয়ার কেনার পর শেয়ার হল ১৮০০
v ১৮০০ শেয়ার এর ওপর তিনকড়ি বাবুকে শেয়ার পিছু ২ টাকা করে
মোট ৩৬০০ টাকা দিতে হবে-----অটল বাবু তিনকড়ি বাবুকে জানায়।
v গবরমিন্ট কান পকড়কে আদায় করবে”----কথাটি গন্ডেরিরাম
তিনকড়ি বাবুকে জানায়।
v তিনকড়ি বাবু শ্যাম বাবু কে শেষে তিনবার “চোর- চোর- চোর”
বলেছিল।
v শেষে সবাই চলে যায় কারণ কোম্পানির ডিরেক্টর একজন আর কেউ
নেই তিনকড়ি বাবু ছাড়া।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment