Breaking



Tuesday, February 10, 2026

শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী লিমিটেড

 

শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী লিমিটেড

পরশুরাম


শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী লিমিটেড





v গল্পটি ভারত বর্ষ মাঘ ১৩২৯ (1922) প্রকাশিত হয় ‘গড্ডালিকা' গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত ।

 

চরিত্র পরিচয় :-

v শ্যামলাল গাঙ্গুলী (শ্যামবাবু) :

Ø বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি

Ø গাঢ় শ্যামবর্ণ

Ø কাচাপাঁকা দাড়ি

Ø আকন্ঠলম্বিত কেশ

Ø স্থূল লোমশ বপু

Ø ইবি রেলওয়ে অডিট অফিসে চাকরি করতেন। ৬ মাসের ছুটি নিয়ে ‘ ব্রহ্মচারী এন্ড ব্রাদার ইন-ল জেনারেল মার্চেন্স' কোম্পানি খুলেছে।

Ø ধর্মভীরু ,পঞ্জিকা দেখে জীবনযাত্রা করে।

Ø অবসরে তান্ত্রিক সাধনা করে

Ø নিজেকে শ্রীমৎ শ্যামানন্দ ব্রহ্মচারী আখ্যা দিয়ে থাকেন।

Ø শ্যাম বাবু ধর্ম ভীরু লোক

v অটলবিহারী দত্ত :-

Ø চাপকান চোগাধারী সদ্যজাত আটর্নি।

Ø পিতার অফিসে সম্প্রতি জুনিয়র পার্টনার রূপে যোগ দিয়েছেন

Ø গৌরবর্ণ সুপুরুষ।

Ø বয়সে নবীন হলেও চাতুর্যে পরিপক্ক

v গন্ডেরিয়াম বাটপারিয়া :-

Ø মধ্যবয়স্ক, শ্যাম বর্ণ ,পরিধানে সাদা ধূতি লম্বা কালো বানাতের কোর্ট।

Ø পায়ে বার্ণিশ করা জুতো

Ø মাথায় হলদে ভাঁজ করা মখমলের পাগড়ি

Ø হতে অনেকগুলি আংটি

Ø কানে পান্নার মাকড়ি, কপালে ফোঁটা

v বিপিন :

Ø সাহেবি মেজাজের লোক।

Ø পরিধানে সাদা প্যান্ট ▶️ কালো কোট▶️ লাল নেকটাই ▶️হাতে সবুজ ফেল্ট হ্যাট

Ø উজ্জল শ্যামবর্ণের, ক্ষীণকায়,গোঁফের দুই প্রান্ত কামানো

v তিনকড়ি বাবু –

Ø বাড়ি : বাগবাজার গলির ভিতর

Ø বয়স : ষাট বৎসর, ক্ষীণ দেহ, দাড়ি কামানো

Ø শীর্ণ গোঁফে তামাকের ধোঁয়ায় পাঁকা খেজুর রঙ ধরিয়াছে।

Ø কথা কহিবার সময় আরশোলার দাড়ার মতো নড়ে

গল্পের কাহিনীবিন্যাস:-

v গল্পের শুরু- মাঘ মাস,১৩৩৬ সাল।

v গল্পের শুরুর সময় – আরমানি গির্জার ঘড়িতে বেলা ১১ টা।

v শ্যাম বাবুর হাতে একটি চামড়ার ব্যাগ।

v ব্যাগ হাতে করে শ্যাম বাবু জুডাস লেনের তেতলা বাড়িতে প্রবেশ করেন।

🟤 বাড়ির চিত্র

Ø বাড়িটি বহু পুরাতন। ক্রমাগত চুন ও রংয়ের প্রলেপে লোলচর্ম কলপিত কেশবৃদ্ধের দশা প্রাপ্ত হইয়াছে।

Ø বাড়িটির নিচে অন্ধকারময়  মালের গুদাম।

Ø বাড়িটির উপরতলার সম্মুখ ভাগে অনেকগুলো ব্যাবসায়ী আপিস।পশ্চাতে বিভিন্ন জাতের কয়েকটি পরিবার পৃথক পৃথক অংশে বাস করেন।

Ø প্রবেশ দ্বারের সন্মুখে তেতলা পর্যন্ত বিস্তৃত কাঠের সিঁড়ি।

Ø সিঁড়ির পাশের দেওয়াল আগাগোড়া তাম্বুলরাগচর্চিত।

Ø কতিপয় ইঁদুর ও আরশোলা পরস্পর অহিংস ভাবে সচ্ছন্দে ইতস্তত বিচরণ করিতেছে। আশ্রম মৃগের  ন্যায় নিঃশঙ্ক সিঁড়ির যাত্রীগণকে গ্রাহ্য করে না।

Ø সিন্ধি পরিবারের রান্নাঘর থেকে নির্গত হচ্ছে তীব্র হিংয়ের গন্ধ।

v শ্যাম বাবু তেতালার একটি ঘরের তালা খুললেন।

v সেই ঘরের কাষ্ঠ ফলকে লেখা আছে- ব্রহ্ম চারী অ্যান্ড ব্রাদার ইন্ ল জেনারেল মার্চেন্টস।

v শ্যাম বাবু শ্যালক হলেন- বিপিন চৌধুরী, বি, এস,সি ।

v শ্যামবাবুর অফিসের ঘরে রয়েছে পুরাতন কয়েকটি টেবিল ও আলমারি প্রভৃতি আপিস সরঞ্জাম।

v টেবিলের উপর নানা রকম খাতা, বিতরণের জন্য ছাপানো বিজ্ঞাপনের স্তূপ, একটি পুরাতন থ্যাকার্স ডিরেক্টরি, একখন্ড ইন্ডিয়ান কোম্পানিজ অ্যাক্ট, কয়েকটি বিভিন্ন কোম্পানির নিয়মাবলির আর্টিকেল এবং অন্যবিধ কাগজপত্র ।

v দেওয়াল সংলগ্ন তাকের ওপর ধূলি ধূসরিত কাগজ মোড়া শিশি ও শূণ্যগর্ভ মাদুলি রয়েছে।

v এককালে শ্যাম বাবু পেটেন্ট ও স্বপ্নাদ্য ঔষধের কারবার করতেন।

v ই, বি, রেলওয়ে আফিস এর চাকরি ই তাহার  জীবিকা নির্বাহের প্রধান উপায়।

v শ্যাম বাবুর একটি জীর্ণ কালীমন্দির আছে,সেখান থেকে আয় হয় সামান্য।

v শ্যাম বাবু চাকরির অবকাশে ব্যাবসা করেন, এই ব্যাবসায় তাকে সাহায্য করেন বিপিন।

v শ্যাম বাবুর কোনো সন্তান নেই।

v স্ত্রী, শ্যালক কে নিয়ে শ্যাম বাবু কলকাতার বাসায় থাকেন।

v সম্প্রতি ৬ মাসের ছুটি নিয়ে নতুন উদ্যমে ব্রহ্মচারী অ্যান্ড ব্রাদার ইন ল নামে আফিস প্রতিষ্ঠা করেছেন।

v শ্যাম বাবু ধর্ম ভীরু লোক।

v তিনি কয়েক মাস্ ধরে বাড়িতে গৈরিক বস্ত্র পরিধান করছেন।

v শ্যাম বাবু নিজেকে শ্রীমৎ শামানন্দ ব্রহ্মচারী আখ্যা দিয়ে থাকেন ।

v ক্ষুধা না থাকিলে মাংস ভোজন এবং অকারণে কারণ পান করেন না।

v কোন সন্ন্যাসী সোনা করিতে পারে ,কাহার নিকট দক্ষিণাবর্ত শঙ্খ বা একমুখী রুদ্রাক্ষ আছে ,কে পারদ ভষ্ম করিতে জানে এই সকল সন্ধান প্রায়ই লইয়া থাকেন।

v শ্যাম বাবু সার্ধ ত্রিপাদ ইজি চেয়ারে বসে চাকর বাঞ্ছা কে ডাকলেন।

v শ্যাম বাবুর চাকর- বাঞ্ছা।

v বাঞ্ছা পাসের গলিতে টুলে বসে ঢুলছিল।

v  শ্যাম বাবু বাঞ্ছা কে গঙ্গাজলের বোতলটা আনতে বলতে সে শ্যাম বাবু কে একটি তামার কুপি এনে দিল।

v শ্যাম বাবু টেবিলের দেরাজ থেকে একটি সিঁদুর চর্চিত রবার স্ট্যাম্প এর সাহায্যে ১০৮ বার দুর্গা নাম লিখলেন।

v স্ট্যাম্পে ১২ লাইন শ্রী শ্রী দুর্গা খোদিত আছে,৯ বার ছাপলেই কার্যোদ্ধার হয়।

v এই শ্রমহারক যন্ত্রটির আবিষ্কর্তা – শ্রীমান বিপিন।

v শ্রীমান বিপিন ইহার নাম দিয়েছেন- ‘ দি অটোম্যাটিক শ্রী দুর্গাগ্রাফ’।

v বিপিন বাগবাজার এ তিনকড়ি বাঁড়ুয্যের কাছে পাকা কথা নিয়ে আসার জন্য গেছে।

v তিনকড়ি বাবু যেমন কঞ্জুস তেমনি সন্দিগ্ধ।

v তিনকড়ি বাবু হলেন রায়  সাহেব, রিটায়ার্ড ডেপুটি, গভর্মেন্ট এর কাছে অনেক নাম।

v প্রতি মিটিং এ ৩২ টাকা ফি পাবে শুনে তিনি শেষে রাজি হন

v তিনকড়ি বাবু বাতে ভুগছেন।

v মহারাজ কে ধরতে বড় শিকারী চাই তোমার আমার কর্ম নয় তাছাড়া পাঁচভূতে থাকে শুষে দিয়েছে_শ্যামলালের উক্তি

v রাম রাম বাবু সাহেব”এই কথাটি বলে শ্যাম বাবুর ঘরে ঢুকলেন গন্ডেরিরাম বাট পারিয়া।

v গন্ডেরিরাম ছিলেন শ্যাম বাবুর বিশেষ বন্ধু।

v গন্ডেরিরাম আসতে শ্যাম বাবু বাঞ্ছা কে চেয়ার দিতে বলেছিলেন।

v অটল বাবু সলিসিটর দত্ত কোম্পানির পার্টনার।

v শ্যামবাবু মা তারা দীনতারিণী দেবীর নাম উল্লেখ করেন।

v গন্ডেরিরাম বাবু পাকা ব্যবসাদার সঙ্গে ইংরেজি ভালো না জানলেও বেশ শিক্ষিত লোক, শাস্ত্রেও বেশ দখল আছে।_শ্যাম

v গন্ডেরিরাম বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কিতাব পড়েছেন বলে অটল বাবুকে জানান।

v তিনকড়ি বাবু ২ হাজার টাকার শেয়ার নেবেন।

v শ্যাম বাবু, অটল, বিপিন পরশু সকালে ভাত খাবার নিমন্ত্রণ করেছেন বলে বিপিন জানায়।

v আমি মেমোরান্ডাম আর আর্টিকেলসের সবিদা এনেছি-অটল

v অটল প্রসপেক্টসটা পড়ার জন্য শ্যাম বাবু কে বলেন।

অনুষ্ঠান পত্রে উল্লেখিত তথ্য

Ø দুর্গা—দুর্গা, জয় সিদ্ধিদাতা গণেশ নাম করে শ্যাম বাবু শুরু করলেন পড়া।

Ø “শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী লিমিটেড”নামে স্থাপিত জয়েন্ট স্টক কোম্পানিটি ১৯১৩ সালের ৭ আইন অনুসারে রেজিস্ট্রিত।

Ø  কোম্পানির মূল্য ১০ লক্ষ্য টাকা।

Ø মূলধন ১০ হিসেবে ১০০,০০০ অংশে বিভক্ত।।

Ø আবেদনের অংশ পিছু ২ প্রদেয়। বাকি টাকা ৪ কিস্তিতে  ৩ মাসের নোটিশে প্রয়োজন মত দিতে হবে।

Ø  ধর্ম হিন্দুদিগের প্রাণস্বরুপ।

Ø ভারতবর্ষের বিখ্যাত দেবমন্দির গুলির বিপুল আয় কিরূপ তাহা সাধারণের জ্ঞাত নহে।

Ø রিপোর্ট থেকে জানা যায় বঙ্গদেশের একটি দেবমন্দিরে দৈনিক যাত্রি সংখ্যা গড়ে ১৫ হাজার। লোক পিছু ৪ আনা মাত্র ধরা হলেও বাৎসরিক আয় সাড়ে ১৩ লক্ষ টাকা।

Ø সাধারণের এই বৃহৎ অভাব দূরীকরণের স্বার্থে শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী লিমিটেড নামে একটি জয়েন্ট স্টক কোম্পানি স্থাপিত হচ্ছে।

Ø শেয়ার হোল্ডারগণ আশাতীত দক্ষিণা বা ডিভিডেন্ড পাবেন এবং একাধারে ধর্ম অর্থ মোক্ষ লাভ করে ধন্য হবেন।

🟤 ছাপানোর জন্য শ্যাম বাবু যে প্রসপেক্টসটা লিখেছিলেন তাতে ৫ জন ডিরেক্টটরের নাম ছিল-

ক) অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ বিচক্ষণ ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট রায়সাহেব শ্রী যুক্ত তিনকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়।

খ) বিখ্যাত ব্যাবসাদার ও  ক্রোড়পতি শ্রী যুক্ত গন্ডেরিরাম বাটপারিয়া।

গ) সলিসিটর্স দত্ত অ্যান্ড কোম্পানির অংশীদার শ্রী যুক্ত  অটলবিহারী দত্ত (M,A,B,L)

ঘ) বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক মিস্টার বি, সি, চৌধুরী,B,Sc,A,S,S(U,S,A)

ঙ)কালীপদাশ্রীত সাধক ব্রহ্মচারী শ্রীমৎ শ্যামানন্দ (ex- officio)

v ৫০ টাকা খরচ করে আমেরিকা না কামস্কাটকা কোথা থেকে তিনটে হরফ আনিয়েছে।

v শ্যাম বাবু হলেন শক্তি মন্ত্রের সাধক, পরিধেয় হল রক্তাম্বর।

v  শ্যাম বাবু বলেন যতদিন না কমিশনে মাসিক ১০০০ টাকা পোষায় ততদিন শেষোক্ত টাকা অ্যালাওয়েন্স রূপে পাইবেন।

v হুগলী জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে সিদ্ধেশ্বরী দেবী বহু শতাব্দী ধরে প্রতিষ্ঠিত আছেন।

v দেবমন্দীর ও তৎসংলগ্ন দেবত্ব সম্পত্তির স্বত্বা ধিকারিণী হলেন শ্রীমতী নিস্তারিণী দেবী।

v শ্রীমতী নিস্তারিণী দেবী  অবলা বলে, দৈবাদেশ নিজে পালন করতে অপারগ বলে উক্ত দেবত্ব সম্পত্তি , মায়ের মন্দির, বিগ্রহ জমি আওলাত আদি এই লিমিটেড কোম্পানিকে সমর্পণ করছেন।

v কোম্পানি মাত্র ১৫০০০ টাকা পণে সিদ্ধেশ্বরী  দেবীর মন্দিরের সমস্ত সম্পত্তি খরীদার্থে বায়না করেছে।

v নূতন দেবালয় আরম্ভ হবে__ তৎসংলগ্ন প্রশস্ত নাটমন্দির▶️ নহবতখানা▶️ভোগ শালা▶️ভান্ডার প্রভৃতি অনেক ব্যাবস্থা থাকবে বলে জানান শ্যাম বাবু।

v শ্যাম। কেন, অন্যায়টা কি হ'ল? স্বপ্নাদেশ, একান্ন পীঠ এক ঠাঁই, জাগ্রত দেবী—এসব বাকি কিছু নয়? গুড-উইল হিসেবে পনের হাজার টাকা খুবই কম।

v মন্দিরে দশ হাজার যাত্রীর উপযুক্ত  অতিথিশালা নির্মিত হবে।

v Caveat emptor অর্থাৎ ক্রেতা সাবধান।

v শেয়ারহোল্ডারগণ বিনা খরচে সেখানে সপরিবারে বাস করতে পারবেন

v হাট বাজার যাত্রা থিয়েটার বায়োস্কোপ ও অন্যান্য আমোদ প্রমোদের আয়োজন থাকবে

v যাহারা দৈবাদেশ বা ঔষধ প্রাপ্তির জন্য হত্যা দেবেন তাহাদের জন্য বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থা থাকবে।

v স্বয়ং শ্রীমৎ শ্যামানন্দ ব্রহ্মচারী সেবার ভার নেবেন।

v দোকান, হাট, বাজার, অতিথিশালা, মহাপ্রসাদ বিক্রি প্রভূতি থেকে প্রচুর লাভ হবে।

v সেবার ফুল থেকে সুগন্ধি তৈল প্রস্তুত হবে।

v প্রসাদী বিল্ব পত্র মাদুলিতে ভরে বিক্রি হবে।

v চরণা মৃত বোতলে ভরে প্যাক করা হবে।

v বলির জন্য নিহত ছাগল সমূহ এর চর্ম ট্যান করে উৎকৃষ্ট কিড স্কিন প্রস্তুত হবে এবং বহুমূল্যে বিলাতে চালান হবে।

v হাড় থেকে বোতাম হবে।

v ছাগল বলি হবে শুনে গন্ডেরিরাম আপত্তি জানালে শ্যাম বাবু কুমড়ো বলি দেবার কথা জানায়।

v বিপিন বলে কুমড়োর খোসা কস্কিট পটাশ দিয়ে বয়েল করে ভেজিটেবিল স্য

শু(স্যুপ) হতে পারে।

v কোম্পানির বাৎসরিক লাভ হবে অন্তত ১২ লক্ষ টাকা, হিসেব করে জানা যায়।

v শেয়ার প্রতি দিতে হবে ২ টাকা।

v কোম্পানি ১০০ পার্সেন্ট ডিভিডেন্ড দিতে পারবে।

v ৩০ হাজার শেয়ারের আবেদন পেলে অ্যালটমেন্ট হবে।

“ঐসী গীত সনসারমে যো গাড়র কি ঠাট

এক পড়া যব গাঢ়মে সবৈ যাত তেহি বাট”।

__এই কবীরজী বচনটা শুনিয়েছেন গন্ডেরিরাম।

v এটির অর্থ- সনসারের লোক সব যেন ভেড়ার পাল। এক ভেড়া যদি খান্দেমে গির পড়ে তো সব কোই উসিমে ঘুসে।

v গন্ডেরিরাম ঘি কে ঘই বলেছিলেন।

v প্রতি বছর গন্ডেরিরাম ঘই এর কাজে ২৫ হাজার টাকা লাগায় এবং মুনাফা হয় সাড়ে ২৪ হাজার।

v অটল গন্ডেরিরাম কে গন্ডার জী বলেছিল।

v গন্ডেরিরাম রোজ গীতা ও রামচরিতমানস পড়তেন,আর রামভজন করতেন।

v গন্ডেরিরাম ব্যবসার জন্য কাসেম আলিকে টাকা ধার দিতেন।

v হামি রহি কলকাতায়, ঘই বনে হাথরসমে_গন্ডেরিরাম

v গন্ডেরিরাম তার ব্যবসার মহাজন, সুদ নেন এবং মুনাফার আধা হিসসাও নেন।

v গন্ডেরিরাম একাদশী, শিবরাত্রি, রাম নবমীর উপবাস পালন করতেন।

v গন্ডেরিরাম ৮ টি ধর্মশালা বানিয়েছিল- লিলুয়া, বালি, আর শেওড়াফুলি তে।

v লিলুয়ার ধর্ম শালা করেছে গন্ডেরিরামের চাচেরা ভাই আশরফিলাল ঠুনঠুনওয়ালা, আর এই কাজে তাকে পরামর্শ ও ঠিকাদার, তদারকি সব দিয়েছে গন্ডেরিরাম।

v সয়করা পাঁচ রুপয়া নস্তুরি তো হিসাব কিজিয়ে তো কিতনা হয়, আসরাফির পুণ্য যদি সোলহ লাখকা হোয়,মেরা ভি আস_সি হাজার মোতাবেক হোনা চাহতা।

v বাঙালি ৩০ রুপায়ার নকরি করবে ৫ পয়সার হরিলুট দিবে

v “শ্যাম দা ও গন্ডেরিরামদা যেন মানিকজোর”---কথাটি বলেছিল অটল।

v বৈরাগ সাধনে মুক্তি সো হমার নহি”----(বৈরাগ্য সাধনে মুক্তি সে আমার নয়)- রবীন্দ্রনাথের এই লাইনটি বলেছিল গন্ডেরিরাম।

v গন্ডেরিরাম বাবুর রেস খেলার প্রসঙ্গ আছে।কোন্ট্রি গেরিল ঘোড়ার ওপর ২০০/৪০০ টাকা লাগাবেন সে কথাও বলেন।

v পরশু দেখা হবে বলে অটল শ্যাম বাবুকে বলে চলে যায়।

v বাগবাজারের গলির ভিতর রায় সাহেব তিনকড়ি বাবুর বাড়ি।

v তিনজন তিনকড়ি বাবুর বাড়িতে নিমন্ত্রিত হয়ে গেছেন।

v ৩ জন্য বাবুর নিচের তলার বৈঠকখানা ঘরে গৃহ কর্তার সঙ্গে ভোজনের অপেক্ষা করছেন।

v তিনকড়ি বাবুর বয়স – ৬০ বছর, ক্ষীণ দেহ , দাড়ি কামানো

v কথা বলবার সময় তিনকড়ি বাবুর গোঁফ আরশোলার দাড়ার মত নড়ে।

v তিনি দৈব ব্যাপারে বিশেষ একটা বিশ্বাস করেন না।

v তিনকড়ি বাবুর বাড়িতে শ্যাম বাবু নিমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছিলেন যে পরিধান পড়ে তা হলো

🟤লাল চেলী> গেরুয়া রঙের আলোয়ান>পায়ে বাঘের চামড়ার শিং তোলা জুতা>দাড়ি এবং চুল সাজিমাটি দ্বারা যথাসম্ভব ফাঁপানো>কপালে মস্ত বড় সিঁদুরের ফোঁটা।

v তিনকড়ি বাবু তামাক টানেন।

v তিনকড়ি বাবু যখন আমড়াগাছি সবডিভিশনের ট্রেজারি চার্জে ছিলেন তখন কলেজ পাস করা নতুন গোঁফ কামানো ডেপুটি এসেছিলেন তিনকড়ি বাবুর কাছে কাজ শিখতে।

v সেই ছেলেটি তিনকড়ি বাবুর কাজে গলদ ধরত।

v শেষে লিখলুম কোল্ডহাম সাহেবকে, যে হুজুর তোমরা রাজার জাত, দু-ঘা দাও সহ্য হয়, কিন্তু দেশী ব্যাঙাচির লাথি বরদাস্ত করবো না।

v তারপর নওগাঁয়ে গাঁজা গোলার চার্জে বদলি করে দিলেন তাকে।

v তিনকড়ি বাবুর নাম ছিল জবরদস্ত হাকিম।

v বিপিন অটল শ্যাম বাবু প্রত্যেক কেই ৫০ হাজার করে দিয়েছেন।

v গন্ডেরিরাম ১ লাখ টাকা শেয়ার কিনেছেন।

v গন্ডেরিরাম মহা হিসেবী লোক।

v শ্যাম বাবু সর্ব ত্যাগী সন্ন্যাসী।

v তিনকড়ি বাবুর চাকর এসে খাবার খেতে যাওয়ার কথা হিসেবে বলেছিল--- .”ঠাঁই হয়েছে”।

v শ্যাম বাবু খাবারের আয়োজন দেখে বলেছিলেন “রাজসূয় যজ্ঞ”।

v তিনকড়ি বাবু রাতে ভাত খান না বাত আছে বলে তাই ২ খানা সুজির রুটি খান।

v কড়াইয়ের ডাল, শাক ভাজা, এচোঁরের ঘণ্ট, পুঁটি মাছ ভাজা, কামরাঙার অম্বল ইত্যাদি রান্নার আয়োজন ছিল।

🟤কোন খাবার দেখে কি উক্তি করেন শ্যামবাবু__

Ø শাক ভাজা, কড়াইয়ের ডাল, এচোড়ের ঘন্ট_শোধন করে নিতে হবে।

Ø আয়ুর্বেদে আছে _পানসে কদলং কদলে ঘৃতম।  কদলীভক্ষনে পনসের দোষ নষ্ট হয় আবার ঘৃতের দ্বারা কদলীর শৈত্য গুণ দূর হয়”

Ø এচোড়ের ঘন্ট- পানসে কদলং কদলে ঘৃতম

Ø পুটিমাছ- রোহিতদপি রোচকা পুন্টিকাঃ সদ্যভর্জিতাঃ

Ø কামরাঙা- গতবছর শ্রীক্ষেত্রে গিয়ে জগন্নাথ প্রভু কে কামরাঙা ফলটি দান করেছিলেন।

v অটল – (জনান্তিকে) আরম্ভের ব্যাবস্থা যা দেখছি তাতে বাড়ি গিয়ে ক্ষুন্নিবৃত্তি করতে হবে।

v তিনকড়ি বাবুর বাতের রোগ আছে বলে শ্যাম বাবু একটি ফেৎকারিণী তন্ত্রোক্ত কবচ করে দেবেন বলেন ।

v শ্যাম বাবুর শ্লেম্মার ধাত আছে তাই অম্বল জিনিসটা সহ্য হয় না।

v শয়নে পদ্মনাভঞ্চ ভোজনে তু জনার্দনম্”—কথাটি বলেন শ্যাম বাবু।

v তিনকরি_ আচ্ছা ঠাকুরমশাই, আপনাদের তন্ত্র শাস্ত্রে এমন কোন প্রক্রিয়া নেই যার দ্বারা লোকের -ইয়ে-মানমর্যাদা বৃদ্ধি পেতে পারে।

v কুলার্ণবে –অমানিনা মানদেন”----অর্থ হল---কুল কুণ্ডলিনী জাগ্রতা হলে অমানি ব্যক্তিকেও মান দেন।

v কোল্ডহাম বাবু বলেছিলেন লাটসাহেব কে ধরে তিনকড়ি বাবুকে খেতাব দেওয়াবেন।

v শ্যাম বাবু বলেন শাস্ত্র মিথ্যা হতে পারেন না।

v তিনকড়ি বাবুর শালী পো কে শ্যাম বাবুর অফিসে কাজে লাগানোর জন্য বলেন

v তিনকড়ি বাবুর শালী পো টি লেখাপড়া না শিখে বেকার হয়ে কুসঙ্গে পরে বিগড়ে গেছে।

v ছোকরা (তিনকড়ি বাবুর শালীপো)বেশ চটপটে ও স্বভাব চরিত্র ও বেশ ভালো।

v শ্যাম বাবু তিনকড়ি বাবুর শালী পো কে মন্দিরের হেড পান্ডা করে দেবেন জানায়।

v মন্দিরের হেড পান্ডা হওয়ার জন্য গোটা ১৫ দরখাস্ত এসেছে----তার মধ্যে ৫ জন গ্র্যাজুয়েট।

v তিনকড়ি বাবু তার বাড়িতে রাখা ফাটা খাঁটি কাঁচা টি শ্যাম বাবু কে মন্দিরের কাজে লাগাতে বলেন।

v গন্ডেরিরাম বাবুর ভবিষ্যত বাণী সফল হয়েছে।

v বিজ্ঞাপনের জোরে ও প্রতিষ্ঠাতৃগণের চেষ্টাই সমস্ত শেয়ার বিলি হয়েছে।

v বাজারে শেয়ার চড়া দামে কেনা বেচা হচ্ছে।

v “পেটে খেলে পিঠে সয়”---- অটল।

v সন্ধ্যেবেলায় শ্যাম বাবু গন্ডেরিরাম কে নিয়ে অটল বাবুর বাড়িতে যাবেন বলে জানায়।

v দেড় বছর পর যখন ব্রহ্ম চারী অ্যান্ড ব্রাদার-ইন-ল কোম্পানির অফিসে ডিরেক্টর গণের সভা বসেছে তখন সেই সভার সভাপতি ছিলেন তিনকড়ি বাবু।

v তিনকড়ি বাবু টেবিলে ঘুষি মেরে জানতে চান সব টাকা কোথায় গেলো!!

v কয়লাওলার পাওনা ছিল ২৫ হাজার টাকা।

v ইটখোলার ঠিকাদারের পাওনা ছিল ১২ হাজার টাকা।

v এছাড়াও ছাপাখানাওয়ালা, শার্পর কোম্পানি, কুন্ডু মুখুজ্জ্যে এরকম আরও পাওনা দার আছে।

v তিনকড়ি বাবু শ্যাম বাবু কে ভন্ড জোচ্চোর বলেন।

v অত ব্যাস্ত হচ্ছেন কেন স্যার,এই ফর্দ রয়েছে দেখুন না জমি কেনা, শেয়ারের দালালি, ইট তৈরী, বিজ্ঞাপন, আপিস খরচ,preliminary expense, establishment প্রভৃতির খরচের কথা বলে __বিপিন> তিনকড়ি কে।

v চোরের সাক্ষী গাঁট কাটা”-----তিনকড়ি বাবু বিপিন কে বলেন

v শ্যাম বাবু তিনকড়ি বাবুকে গোবিন্দপুর গিয়ে সব হিসেব দেখে আসার কথা বলেন।

v তিনকড়ি বাবু শ্যাম বাবুর কাছে টাকা ফেরৎ চাইলে শ্যাম বাবু জগন্মাতার নাম করে বলেন আর একটা call এর টাকা তুললেই সমস্ত দেনা শোধ হয়ে যাবে, কাজও এগোবে।

v শ্যাম বাবু কাশী যাওয়ার কথা বলেন।

v বিশ হাঁথ পানি”----কথাটি বলেন গন্ডেরিরাম। শ্যাম বাবু প্রস্তাব করেন---তিনকড়ি ব্যানার্জি মহাশয়কে মাসিক ১০০০ টাকা পারিশ্রমিক দিয়ে কোম্পানি চালাবার ভার অর্পণ করা হবে।

v “ঘরের খেয়ে বুনো মোষ তাড়াই”---- তিনকড়ি বাবু।

v অর্থ হচ্ছে সাধনের অন্তরায়”------ শ্যাম বাবু।

v শ্যাম বাবু তার কোম্পানির ১৬০০ শেয়ার তিনকড়ি বাবুকে প্রথম ৩২০০ টাকায়,

v তার পর ২৪০০> ২০০০ >১০০০ >৫০০ টাকা,শেষ পর্যন্ত তিনকড়ি বাবুর কথা মত ৮০ টাকায় দিয়ে দেন।

v পকেট থেকে মনি ব্যাগ বের করে সদ্য পাওয়া পেনশনের টাকা হইতে  ৮ খানা আনকোরা ১০ টাকার নোট সন্তর্পণে শ্যাম বাবুকে গনিয়া দিলেন।

v শ্যাম বাবু বাড়িতে সত্য নারায়ণ পুজো আছে বলে চলে যান ।

v “শুভমস্তু—মা দশভূজা আপনার মঙ্গল করুন”----কথাটি শ্যাম বাবু বলেন

v তিনকড়ি বাবুর আগে শেয়ার ছিল ২০০, শ্যাম বাবুর কাছ থেকে ১৬০০ শেয়ার কেনার পর শেয়ার হল ১৮০০

v ১৮০০ শেয়ার এর ওপর তিনকড়ি বাবুকে শেয়ার পিছু ২ টাকা করে মোট ৩৬০০ টাকা দিতে হবে-----অটল বাবু তিনকড়ি বাবুকে জানায়।

v গবরমিন্ট কান পকড়কে আদায় করবে”----কথাটি গন্ডেরিরাম তিনকড়ি বাবুকে জানায়।

v তিনকড়ি বাবু শ্যাম বাবু কে শেষে তিনবার “চোর- চোর- চোর” বলেছিল।

v শেষে সবাই চলে যায় কারণ কোম্পানির ডিরেক্টর একজন আর কেউ নেই তিনকড়ি বাবু  ছাড়া।

সবশেষে গন্ডেরিরাম এর “রাম রাম!” কথাটি দিয়ে গল্প টি শেষ হয়।

No comments:

Post a Comment